হাঁসকে জলজ পাখি বলা হয়। এরা খাল, বিল, পুকুর, হাওর ও নদীর ছোট জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। হাঁস তৃণলতা এবং খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ খেয়ে ভালো উৎপাদন দিতে পারে। হাঁসের খাবারের সাথে পানি মিশিয়ে খাওয়াতে হয়। হাঁসকে শুষ্ক খাদ্যের চেয়ে ভেজা খাবার খেতে খুব পছন্দ করে। তাই এদেরকে সবসময় গুঁড়া ও ভেজা খাদ্য দেওয়া উচিত। প্রথম ৮ সপ্তাহ হাঁসকে প্রচুর পরিমাণে খেতে দেওয়া উচিত। পরবর্তীতে সকালে ও সন্ধ্যায় দিনে দুবার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। হাঁসের বাচ্চাকে জন্মানো পর প্রথম কয়েক দিন হাতে তুলে খাওয়াতে হয় যাতে করে বাচ্চারা খাবার খাওয়া শিখতে পারে।
বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ মিশ্রিত করে মুরগির মতো হাঁসের রেশন তৈরি করা হয়। হাঁসের ৩ প্রকার রেশনের নাম নিচে দেওয়া হলো।
১। হাঁসের বাচ্চার বা প্রারম্ভিক রেশন : ০-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত
২। বাড়ন্ত হাঁসের রেশন : ৫-১৯ সপ্তাহ পর্যন্ত
৩। ডিমপাড়া হাঁসের রেশন : ২০ সপ্তাহ থেকে বাকি সময় পর্যন্ত
হাঁসের খাদ্য গ্রহণ
হাঁসকে বয়স ও উদ্দেশ্য অনুসারে ৩ প্রকার রেশন সরবরাহ করা হয়। হাঁসের দৈনিক খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ হাঁসের জাত, বয়স, খাদ্যের মান, বাসস্থান ও খাদ্যের আকার ও পরিবেশনের উপর নির্ভর করে।
| বয়স | হাঁস (গ্রাম/দিন) |
|---|---|
| প্রথম সপ্তাহ | ১৫ |
| দ্বিতীয় সপ্তাহ | ২৫ |
| তৃতীয় সপ্তাহ | ৩০ |
| চতুর্থ সপ্তাহ | ৩৫ |
| পঞ্চম সপ্তাহ | ৪০ |
| ষষ্ঠ সপ্তাহ | ৪৫ |
| সপ্তম সপ্তাহ | ৫০ |
| অষ্টম সপ্তাহ | ৫৫ |
| বাড়ন্ত | ৮৫ |
| বয়স্ক | ১২৫ |
বিভিন্ন বয়সের হাঁসের রেশন
| খাদ্যদ্রবের নাম | প্রারম্ভিক রেশন (%) | বৃদ্ধি রেশন (%) | লেয়ার রেশন (%) |
|---|---|---|---|
| ভুট্টার গুঁড়া | ৫০ | ৪৫ | ৪০ |
| ধানের কুঁড়া | ১৮ | ২০ | 50 |
| খৈল | ১৬ | ১৭ | ১৮ |
| সয়াবিন মিল | ৬ | ৭ | ৭ |
| শুঁটকি মাছের গুঁড়া | ৮ | ৮ | ৮ |
| শামুকের খোসা চূর্ণ | ১.৫ | ২.৫ | ৬.৫ |
| খাদ্য লবণ | ০.৫ | ০.৫ | ০.৫ |
| মোট | ১০০ | ১০০ | ১০০ |






